যখন জ্বর হয়, তখন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যাতে যেসকল খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে
সেগুলি পেট-বান্ধব খাবার এবং সেই খাবারগুলি প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। জ্বর হলে যেসকল খাবার খাবার খাওয়া প্রয়োজন-
♦️চিকেন স্যুপ
প্রথমত, এটির গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে তরল এর পরিমাণ বাড়ে। দেহের তাপমাত্রা হ্রাস করার পাশাপাশি বিষাক্ত পদার্থগুলি বের করতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, মুরগির স্যুপ শরীরকে প্রোটিন দিয়ে সরবরাহ করে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
♦️ফিশ
যখন আপনার জ্বর হয়, তখন আপনার দেহের সমস্ত প্রোটিনের প্রয়োজন যা এটি থেকে দ্রুততর হারে পুনরুদ্ধার করতে পারে। বিশেষত তৈলাক্ত মাছ ওমেগা 3 ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
♦️শাকসবজি
শাকসবজি আপনার শরীরকে অনেক বেশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। আপনার দুর্বল পেটে হজম করা সহজ করার জন্য আপনার শাকসবজি গুলি ভালভাবে রান্না করে খেতে হবে । শাকসবজি এর স্যুপ করে খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
♦️ফল
জ্বরে আক্রান্ত ব্যাক্তির ভাল পরিমাণে ফল খাওয়া প্রয়োজন। বেশিরভাগ ফল ভিটামিন সি দিয়ে ভরা থাকে যা আপনার শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সিস্টেমের জন্য প্রয়োজন। যদি আপনার ক্ষুধা জানালার বাইরে চলে যায় তবে তাজা ফলের রস গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ সেগুলি খাওয়ানো খুব সহজ।
♦️নারিকেলের পানি
আপনার যদি জ্বর হয় তবে আপনার নারকেল জল গ্রহণ করা উচিত কারণ এটি শরীরকে অনেক বেশি হাইড্রেট করে। যার জ্বর আছে তার জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
♦️লাল চা
সর্দি-কাশিজনিত জ্বরে লাল চা বেশ উপকারী। সবচেয়ে ভালো হয় আদা, লং, এলাচ পানির সঙ্গে ফুটিয়ে অর্ধেক করে এর সঙ্গে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেলে। এ ছাড়া পান করা যেতে পারে তুলসী চা। খেতে পারেন গ্রিন টিও।
♦️নরম খাবার
জ্বরের সময় প্রচুর দৈনন্দিন খাবার একটু নরম বা অর্ধতরল করে খাওয়াতে পারলে ভালো। এসব খাবার বেশি চিবোতে হয় না বলে সহজে গেলা যায়। হজমও হয় সহজে। নরম ও পাতলা মুগডালের খিচুড়ি, জাউভাত, সুজি, সাগু, পুডিং, নরম ও কাঁটা ছাড়া মাছ ইত্যাদি রোগীকে দেওয়া যেতে পারে।
♦️যেসকল খাবার গ্রহণ করা যাবে না
যে খাবারগুলি হজম করা শক্ত তা জ্বরের সময় এই ধরনের খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে এছাড়াও,এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যা শরীরকে ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে না।
জ্বরের রোগীদের জন্য উপকারী খাবারের পাশাপাশি অপকারী কিছু খাবার আছে, যা ওই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। যেমন—ফাস্ট ফুড, তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া, গুরুপাক খাবার, সালাদ ইত্যাদি। শক্ত খাবার, দুধ চা, কফি, কোল্ড ড্রিংস ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। কেননা এসব খাবার শুধু হজমেই অসুবিধা করে না বরং দ্রুত আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। জ্বর কমাতে ব্যথার বা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে হতে পারে তাই, যাতে গ্যাস না এসিডিটি না হয় সেজন্য তরল, অল্প নরম খাবার বার বার খেতে হয়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন